info@uccrel.com
Sat - Thu : 09 AM - 07 PM
ISO 45001:2018 14001:2015 9001:2015
পেশাজীবী সংগঠনগুলোর সমন্বয়হীনতা ও রাজউকের অক্ষমতাই ড্যাপ বাস্তবায়নে বাধা মো: আবুল কালাম মাহমুদ সরকার (তানভীর)
October 5, 2024, 8:18 pm news

ঢাকার একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। বহু বহু গল্প রচিত হয়েছে এই রাজধানী ঢাকাকে ঘিরে । অনেক পথ পরিক্রমার মধ্য দিয়ে আজকের এই ঢাকা, দিনরাত কথা বলা ব্যস্ত এক নগরী। আমরা নিজেরাই নানান সুযোগ সুবিধার আশায় এই নগরীতে এসে নগরীকে কথা বলা শিখিয়েছি যার ফলশ্রুতিতে জনসংখ্যার ঘনত্ব এখানে ব্যাপক হারে বেড়ে চলেছে। অতীতেই উচিত ছিল একটি সুষ্ঠু প্ল্যান প্রোগ্রাম এর ভিত্তিতে প্রয়োজন মতো ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে সুযোগ সুবিধা বিকেন্দ্রীকরণ করা। তাহলে জনঘনত্ব কিছুটা হলেও হ্রাস হতো। যেহেতু আমরা অতীতে সেই ব্যবস্থা করতে পারিনি তাহলে এই ঘনত্বের বিষয়টি মেনে নিয়েই আমাদের এখন সামনে এগুতে হবে এবং বর্তমান করনীয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজাতে হবে। ধীরে সুস্থে ছড়িয়ে দিতে হবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা। মূলত ড্যাপ এ প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করে থাকে। 

সম্পূর্ণ বিষয়টি বুঝতে হলে আগে বুঝতে হবে ড্যাপ DAP কি?  Detail area plan, বাংলায় বলা হয় বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা। সহজভাবে ব্যাখ্যা করলে দাঁড়ায়,  নগর ও নাগরিকদের কথা মাথায় রেখে রাজউক একটি সুনির্দিষ্ট অঞ্চলের আওতায় জনসংখ্যা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিবেচনায় নানান সুযোগ সুবিধার আলোকে একটি বিশদ পরিকল্পনা প্রণয়ন করে থাকে। এরমধ্যে সকল এলাকার জনঘনত্ব নির্নয়, এলাকাভেদে কতোতলা ভবনের প্ল্যান পাসের অনুমতি দেয়া যায়, রাস্তা, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, বানিজ্যিক ভবন ইত্যাদিসহ আরো অনেক বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রনয়ণ করে থাকে ড্যাপ। এখন কথা হচ্ছে এই ড্যাপ কারা বাস্তবায়ন করবে? ড্যাপ বাস্তবায়নে চালকের আসনে থাকে রাজউক, সাথে এই প্রক্রিয়ার নানান যন্ত্রাংশ ইঞ্জিন ও চালিকা শক্তির ভূমিকা পালন করে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী সংগঠনগুলো ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডাররা। ইঞ্জিনের কোথাও একটা ত্রুটি দেখা দিলে ড্যাপ আর ভালোভাবে ফাংশন করবেনা। এই নিয়েই এখন যতো বিপত্তি!

সামনের ড্যাপ যেন সংশোধিত হয়ে আরো টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব হয় সে লক্ষ্যে রাজউকের উচিত হবে সকল পেশাজীবী সংগঠন এবং নাগরিকদের মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে আসা। ভুড়ি ভুড়ি অসংখ্য ত্রুটি আমরা অতীতে পেয়েছি। নতুন ড্যাপ বাস্তবায়নে এসব ত্রুটিগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে সুষ্ঠু সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। এই সমাধান নিশ্চিত করতে হলে পেশাজীবী সংগঠনগুলোকেও একটি সহনশীল জায়গায় আসতে হবে। সেক্ষেত্রে ন্যায্যতার ভিত্তিতে যুক্তিভিত্তিক চাহিদা ও দাবি দাওয়ার পরিমিতিবোধ থাকাটা এখানে বাঞ্চনীয়। নিজ গুষ্টি বা পক্ষের স্বার্থে ড্যাপকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে সমস্ত কর্ম প্রকৃয়া বিলম্বিত ও বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে ভোগান্তিতে পড়বে নগরবাসী। অনেকের সাথে কথা বলে আমার যা মনে হয়েছে রাজউকের এখন উচিত হবে জনঘনত্বের বিষয়টি পজিটিভলি মাথায় রেখে স্মার্ট কমপ্লিট সিটি  নির্মাণের পরিকল্পনার দিকে এগিয়ে যাওয়া। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশ জনঘনত্বকে পজিটিভলি কাজে লাগিয়ে তাদের শহরকে সাঁজিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ হংকং, সিঙ্গাপুর, চায়না, নিউইয়র্ক, লন্ডন। একটি শহরের ফুটপাতে যখন খাবারের দোকান পসরা সাজিয়ে বসে তখন বুঝতে হবে খাবারের দোকানের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মানুষের এই চাহিদাকে উপেক্ষা করে এই স্ট্রিট ফুডের দোকান চাইলেই আপনি উঠিয়ে দিতে পারবেন না। উঠিয়ে দিলে এই মানুষগুলো কোথায় যাবে? তাদের ব্যবস্থা কি? রাজউক ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোর উচিত হবে এই চাহিদাগুলোকে মাথায় রেখেই শহরের নকশা করা। আর যদি চাহিদা না-ই থাকে তাহলে সয়ংক্রিয়ভাবে ফুতপাতের দোকান সরে যাবে। এখানে ফুতপাতের খাবারের দোকান আমি উদাহরণস্বরুপ বললাম। এরকম অনেককিছুই এই শহরে হচ্ছে যেগুলো আমাদের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। যদি আমরা চাহিদার ভিত্তিতে সঠিক প্ল্যান করে দেই তাহলে এই সমস্যা আর থাকবেনা। ঢাকা শহরে প্রায় পয়ত্রিশ লক্ষ বস্তিবাসী এবং লাখ খানেক পথশিশু ঘুরে বেড়ায়। নানান অপকর্মের মধ্যে তারা নিজেদের জড়িয়ে ফেলছে। এখানে রাজউকেরও দ্বায়বদ্ধতা রয়েছে। আমরা সাবলম্বীদের আবাসনের ব্যবস্থা করলেও বাস্তুহীনদের জন্য কোনো সার্বজনীন আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারিনি। ড্যাপে ঢাকার পরিধি বাড়ানো হয়েছে কিন্তু সঠিক সুস্পষ্ট নীতিমালা না থাকলে এখন কৃষিজমি ভরাট হবে, খাল, জলাধার, নদী দখল হবে, ভূমিদস্যুদের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে অনেক এলাকা। এখনই নীতিমালা না হলে পরে এসব বিষফোড়া ক্যান্সারে রুপ নিবে এবং সরকারের পক্ষে এদের প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়বে। রাজউকের উচিত হবে নতুন ড্যাপে এখনই ভবিষ্যতের রাস্তা সম্প্রসারন, প্রশস্তকরন, পরিবেশ, ফায়ার, পানি নিস্কাশন, ও সংস্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে পেশাজীবিদের সমন্বয়ে সম্মিলিতভাবে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহন করা। বাড়ীর নকশা পাশের সময় কমিয়ে আনতে হবে। রাজউকের দূর্নীতি উপঢৌকনের কথা সবসময় আমরা শুনে আসছি। যার ফলে আবেদনকৃত বাড়ীর নকশা বহু সময় ধরে টেবিলেই পড়ে থাকে। সাধারন মানুষের বেশীরভাগই জানে না রাজউকে প্ল্যান পাশের প্রক্রিয়া সম্পর্কে। যার ফলে দালালের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারান। এই ভোগান্তি দূরীকরণে রাজউকের উচিত ওয়ান স্টপ সলিউশন সেবা চালু করা। একটা উইন্ডোর মাধ্যমেই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ হবে। সেক্ষেত্রে পনেরো থেকে পঁয়তাল্লিশ দিনে সমস্ত কাজ শেষ করতে হবে। আগের নব্বই দিন অধিক সময়। সহজ ও ত্রুটিবিহীন অনলাইন প্রকৃয়া আরো সহজতর ও সাধারনের কাছে গ্রহনযোগ্য করে তুলতে হবে। 

ড্যাপের পূর্ণাঙ্গ ম্যাপ অনলাইনে সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে যেনো নাগরিকরা তাদের এলাকা চিহ্নিত করতে পারে।
মনে রাখতে হবে, রাজউকের কর্ম প্রক্রিয়ার সাথে নগর ও নগরের মানুষের জীবনমান, আবাসন খাতের বিনিয়োগকারী, বহু শিল্প প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবীসহ লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল। 
নগরবাসী চায় একটি পরিকল্পিত সাজানো গোছানো সুন্দর শহর। সকলের সমন্বয়ে  রাজধানী ঢাকা যেনো প্রাণ ফিরে পায় সেই লক্ষ্যে রাজউকের যা যা করণীয় তার সর্বোচ্চ করাটাই রাজউকের এখন ফরজ কাজ।